বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
মেসির মায়ামি ডুবছে, প্লে-অফে শঙ্কা বাড়ছে প্রতিক্ষণে!
অনলাইন ডেস্ক
নতুন মৌসুম, নতুন আশা—কিন্তু ইন্টার মায়ামির গল্পটা যেন উল্টো দিকেই যাচ্ছে। গতবার যেভাবে দলটি মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ঝড় তুলেছিল, এবার ঠিক ততটাই ছন্দহীন ও এলোমেলো। সর্বশেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অরল্যান্ডো সিটির কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে যেন পুরোপুরি ছিটকে পড়েছে ছন্দ থেকে, যা নিয়ে এখন সরব হয়ে উঠেছে গণমাধ্যম।
চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে একেবারেই পাত্তা পায়নি হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল। এই পরাজয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সে নেমে গেছে ষষ্ঠ স্থানে। যদিও প্লে-অফের মধ্যে এখনো রয়েছে দলটি, কিন্তু এমন ধস নামানো হারে প্রশ্ন উঠছে টিকে থাকা নিয়েই।
প্রথমার্ধে দুই দলই খেলায় আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তেজনায় উত্তাল হয় মাঠ। কিন্তু ম্যাচে প্রথম হাসি হেসেছিল অরল্যান্ডো। পেদ্রো গায়েসে থেকে শুরু করে নিখুঁত পাসিংয়ের মাধ্যমে বল যায় লুইস মুরিয়েলের পায়ে, যিনি ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে চুপ করিয়ে দেন স্বাগতিক সমর্থকদের।
হাফটাইমেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে হেরনসরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যা ঘটেছে, তা যেন একেবারে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় মেসিদের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নার থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে অরল্যান্ডো। মার্টিন ওজেদা গোলমুখে একা গিয়েও বল বাইরে মারেন। তবে পরক্ষণেই ভুলের মাসুল দিতে হয় ইন্টার মায়ামিকে।
গোলরক্ষক অস্কার উস্তারির অদ্ভুত এক ভুলে দ্বিতীয় গোলটি করেন মার্কো পাসালিচ। তার পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে ঢুকলে গোটা স্টেডিয়াম নিমেষেই স্তব্ধ হয়ে যায়।
এতেও যেন শেষ হয়নি দুঃস্বপ্ন। ম্যাচের শেষ দিকে একমাত্র মেসিই কিছুটা চেষ্টা করেন ব্যবধান কমাতে। বাম দিক থেকে নেওয়া এক ঝাঁঝালো শটে তিনি লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ‘পুলপো’ গায়েসে ছিলেন অবিচল—সম্পূর্ণ শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রক্ষা করেন গোল।
সেই মুহূর্তেই বোঝা যায়, ইন্টার মায়ামির জন্য হারের গল্পটা লেখা হয়ে গেছে।
শেষদিকে রামিরো এনরিকের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলেও অরল্যান্ডো থামেনি। একদম যোগ করা সময়ে ডাগুর ডান থোরহ্যালসনের বুলেট গতির শটে আসে তৃতীয় গোল, আর মায়ামির জন্য রাতটা পরিণত হয় দুর্বিষহ এক স্মৃতিতে।
এই হারে ১৪ ম্যাচে মায়ামির জয় ৬টি, ড্র ২টি আর হার ৬টি। তবে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়, শেষ সাত ম্যাচে হেরেছে পাঁচবার, আর হজম করেছে ২০টি গোল—মানে প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৩টি। এমন পরিসংখ্যান রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর দলের কাঠামোর অসঙ্গতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
ট্যাকটিকসের ঘাটতি, মনোসংযোগের অভাব আর খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার সংকট—সবকিছুই কোচ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর কোচিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে গণমাধ্যমে।
প্লে-অফের জায়গা ধরে রাখতে হলে এখনই ঘুরে দাঁড়াতে হবে মেসিদের। কারণ এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই যেন একেকটা ফাইনাল। না হলে বহু প্রত্যাশার এই মৌসুমটা শেষ হতে পারে একেবারেই হতাশায় মোড়া এক পরিণতিতে।